Menu
কেন ইহরাম কাফনের কথা মনে করিয়ে দেয়? ইহরামের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

কেন ইহরাম কাফনের কথা মনে করিয়ে দেয়? ইহরামের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

ইহরাম: অহংকার বিসর্জন ও আল্লাহর রঙে রাঙানোর পবিত্র অঙ্গীকার

ইহরামের গভীর তাৎপর্য: শুভ্র বসনে আখেরাতের প্রস্তুতি ও সাম্যের শিক্ষা

হজ ও ওমরাহর প্রধান রুকন হলো ইহরাম। বাহ্যিকভাবে এটি কেবল দুটি সাদা কাপড় মনে হলেও এর গভীরে লুকিয়ে আছে আধ্যাত্মিকতার বিশাল সমুদ্র। ইহরাম আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের অহংকার করার কিছু নেই; দিনশেষে আমাদের পরিচয় কেবল আল্লাহর গোলাম হিসেবে।

১. কোরআনের দৃষ্টিতে হজের পবিত্রতা ও ইহরাম

ইহরাম অবস্থায় মুমিন ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর কাছে পূর্ণ সমর্পণ করে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন:

“হজ হয় নির্দিষ্ট কয়েকটি মাসে। যে ব্যক্তি এই মাসগুলোতে হজের সংকল্প করে, সে যেন হজের সময় কোনো অশ্লীল কাজ না করে, কোনো গুনাহের কাজে লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে।” (সূরা বাকারা: ১৯৭)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, ইহরাম কেবল পোশাকের পরিবর্তন নয়, বরং এটি আচরণের আমূল পরিবর্তনের এক অঙ্গীকার। এই সময় একজন হাজি তার রিপুকে নিয়ন্ত্রণ করার এক বাস্তব প্রশিক্ষণ লাভ করেন।

২. ইহরাম ও কাফন: মৃত্যুর এক জীবন্ত মহড়া

ইহরামের সাদা ও সেলাইবিহীন কাপড় আমাদের মৃত্যুর পর পরানো কাফনের কাপড়ের সাথে হুবহু মিলে যায়। একজন হাজি যখন তার দামী পোশাক, পদমর্যাদা এবং সামাজিক পরিচয় ত্যাগ করে এই দুই টুকরো কাপড় গায়ে জড়ান, তখন তিনি কার্যত নিজের দাফনের কথা স্মরণ করেন।

বাস্তবতার প্রতিফলন: আমরা দুনিয়ায় ব্র্যান্ডের কাপড় বা আভিজাত্য নিয়ে গর্ব করি। কিন্তু ইহরাম আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, কবরে যাওয়ার সময় এই জৌলুস আমাদের সাথে যাবে না। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

“মৃত ব্যক্তিকে তিনটি জিনিস অনুসরণ করে—পরিবার, সম্পদ ও আমল। দুটি ফিরে আসে (পরিবার ও সম্পদ), আর কেবল আমলই তার সাথে থেকে যায়।” (সহীহ বুখারী) ইহরাম পরা অবস্থায় একজন হাজি যেন জীবিত থাকতেই সেই আমল নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাজিরা দেওয়ার মহড়া দেন।

৩. বিশ্বজনীন সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক

ইসলামে উঁচু-নীচুর কোনো ভেদাভেদ নেই—এর সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী হলো হজের ময়দান। কোটিপতি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নিঃস্ব ভিক্ষুক—সবাই একই পোশাকে, একই ময়দানে ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত করেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর বিদায় হজের ভাষণে এই সাম্যের কথা ঘোষণা করেছিলেন:

“হে লোকসকল! তোমাদের রব একজন, তোমাদের পিতাও একজন (আদম)। সাবধান! কোনো আরবের ওপর অনারবের, কিংবা অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; নেই শ্বেতাঙ্গের ওপর কৃষ্ণাঙ্গের বা কৃষ্ণাঙ্গের ওপর শ্বেতাঙ্গের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব—কেবল তাকওয়া (আল্লাহভীতি) ছাড়া।” (মুসনাদে আহমাদ)

বাস্তব প্রেক্ষাপট: আজকের পৃথিবীতে যখন বর্ণবাদ ও আভিজাত্যের লড়াই চলছে, তখন ইহরাম আমাদের শেখায় যে আল্লাহর কাছে কেবল অন্তরের পবিত্রতাই মূল্যবান। একই কাতারে দাঁড়িয়ে যখন রাজা ও প্রজা সিজদাহ দেয়, তখন পৃথিবীর সকল কৃত্রিম বিভেদ ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

৪. ইহরামের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি

ইহরাম গ্রহণের মাধ্যমে একজন হাজি জাগতিক সকল ভোগ-বিলাস থেকে সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। সুগন্ধি ব্যবহার না করা, চুল-নখ না কাটা বা শিকার না করার মাধ্যমে তিনি প্রকৃতির প্রতি মমতবোধ এবং আল্লাহর প্রতিটি হুকুমের প্রতি বিনয়ী হতে শেখেন। এই আত্মসংযম তাকে হজের পরেও একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে জীবন গড়তে সাহায্য করে।

উপসংহার

ইহরাম হলো মহান আল্লাহর মেহমান হওয়ার বিশেষ ড্রেসকোড বা ইউনিফর্ম। এটি আমাদের বিনয় শেখায়, মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দিয়ে আখেরাতমুখী করে এবং গোটা মুসলিম উম্মাহকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়। আত তাবলীগ হজ্জ সার্ভিসেস-এর পক্ষ থেকে আমাদের হাজিদের প্রতি আহ্বান—আপনার ইহরামের শুভ্রতার মতো আপনার অন্তরকেও আল্লাহর ভালোবাসায় সিক্ত ও পবিত্র করুন।

Subscribe to our Hajj and Umrah related Telegram channel to know more such Masla Masael regularly

For latest updates, you can join our ✅WhatsApp group or ☑️ Telegram channel.

গুগল ম্যাপ লোকেশন: https://share.google/E4We5ev9hVwoemWMx