⚖️ জার্মানিতে পরিবার পুনর্মিলন (Family Reunion) নিয়ে কড়াকড়ি: ৬ মাসে মাত্র ২টি ভিসা! 🇩🇪🚨
জার্মানিতে বর্তমানে অভিবাসন নীতি এবং ফ্যামিলি রিইউনিয়ন নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। WELT-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট এবং সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মানবিক বিশেষ কারণ (Härtefall) দেখিয়েও ভিসা পাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি যদি জার্মানিতে পরিবার আনার পরিকল্পনা করেন, তবে ২০২৬ সালের এই নতুন আপডেটটি আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
১. কেন ফ্যামিলি রিইউনিয়ন স্থগিত করা হয়েছে?
২০২৫ সালের ২৪শে জুলাই থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন কার্যকর হয়েছে। যারা ‘সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন’ (Subsidiary Protection) প্রাপ্ত, তাদের জন্য পরিবার নিয়ে আসার সুযোগ ২ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এই স্থগিতাদেশ ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত বহাল থাকবে। সরকারের দাবি—আবাসন সংকট এবং সামাজিক একীভূতকরণ (Integration) ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত।
২. ২,৬০০ আবেদনের মধ্যে মাত্র ২টি ভিসা মঞ্জুর!
সাম্প্রতিক রিপোর্টের তথ্যগুলো রীতিমতো চাঞ্চল্যকর:
- আবেদনের সংখ্যা: স্থগিতাদেশের পর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২,৬০০টি আবেদন জমা পড়েছিল।
- ভিসা প্রাপ্তি: এই বিশাল সংখ্যক আবেদনের মধ্যে মাত্র ২ জনকে ভিসা দেওয়া হয়েছে।
- কঠোর যাচাই-বাছাই: প্রায় ১,৫০০টি আবেদন বর্তমানে প্রাথমিক তদন্তের (Fact-finding) পর্যায়ে আছে এবং ৯০টি আবেদন সরাসরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (Auswärtiges Amt) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
৩. কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন?
এই আইনের কবলে সবচেয়ে বেশি পড়ছেন সিরীয় শরণার্থী এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের নাগরিকরা। যাদের পূর্ণ রিফিউজি স্ট্যাটাস না দিয়ে কেবল ‘সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন’ দেওয়া হয়েছে, তাদের জন্য পরিবার আনা এখন প্রায় অসম্ভব। আগে যেখানে প্রতি মাসে গড়ে ১,০০০ জনকে অনুমতি দেওয়া হতো, এখন তা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
৪. মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিক্রিয়া
জার্মান সরকারের এই কঠোরতাকে ‘অমানবিক’ বলে সমালোচনা করছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও বিরোধী দলগুলো। তাদের মতে, দীর্ঘদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা একজন মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে এই নীতি।
💡 বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনার করণীয়
জার্মানিতে যারা আসার পরিকল্পনা করছেন বা পরিবার আনার অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্য ২০২৭ সালের আগে এই নিয়ম শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের পরামর্শ:
- আইনি পরামর্শ: যেকোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আগে একজন বিশেষজ্ঞ Migration Lawyer-এর পরামর্শ নিন।
- ডকুমেন্টেশন: আপনার কেসটি যদি সত্যিই ‘Härtefall’ বা চরম মানবিক সংকটের হয়, তবে তার শতভাগ প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখুন।
- ধৈর্য ধারণ: বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রক্রিয়াগুলো সময়সাপেক্ষ, তাই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন।
তথ্যসূত্র: WELT, dpa, Bundesinnenministerium (January 2026 Update




