ইসলামের ইতিহাসে ‘জমজম’ কেবল একটি কূপের নাম নয়, এটি মহান আল্লাহর অসীম কুদরত এবং মাতৃত্বের এক অনন্য ত্যাগের স্মারক। কয়েক হাজার বছর ধরে মক্কার তপ্ত বালুকাধামে প্রবহমান এই পবিত্র জলধারা আজ সারা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আজ আমরা জানবো জমজমের আদি থেকে অন্ত এবং এর পেছনের অজানা কিছু তথ্য।
১. আদি ইতিহাস: এক মাতৃত্বের আর্তনাদ ও আল্লাহর রহমত
জমজমের ইতিহাসের সূচনা হয় আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগে। আল্লাহর আদেশে হযরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর স্ত্রী বিবি হাজেরা ও দুগ্ধপোষ্য সন্তান হযরত ইসমাইল (আ.)-কে মক্কার জনমানবহীন প্রান্তরে রেখে আসেন।
- সাফা ও মারওয়ার দৌড়: সাথে থাকা পানি ও খাবার ফুরিয়ে গেলে তৃষ্ণার্ত সন্তানের জন্য বিবি হাজেরা পানির সন্ধানে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার ছোটাছুটি করেন।
- অলৌকিক উদ্ভব: শিশু ইসমাইল (আ.)-এর পায়ের আঘাতে (মতান্তরে জিবরাইল আ.-এর পাখা বা পায়ের আঘাতে) মরুভূমির বুক চিরে বেরিয়ে আসে স্বচ্ছ পানির ধারা।
- নামের সার্থকতা: তীব্র বেগে পানি বের হতে দেখে বিবি হাজেরা পাথর দিয়ে বাঁধ দিচ্ছিলেন আর বলছিলেন “জমজম” (থামো, থামো)। সেই থেকেই এই চিরন্তন জলধারা ‘জমজম’ নামে পরিচিত।
২. হারানো কূপের পুনরুদ্ধার ও প্রাক-ইসলামিক যুগ
কালের বিবর্তনে এক সময় মক্কার নিয়ন্ত্রণকারী জুরহুম গোত্রের অবহেলার কারণে এই কূপটি ভরাট হয়ে যায় এবং এর সঠিক অবস্থান মানুষ ভুলে যায়। পরবর্তীতে রাসূল (সা.)-এর দাদা আবদুল মুত্তালিব স্বপ্নের মাধ্যমে ইশারা পেয়ে পুনরায় এই কূপটি খনন ও পুনরুদ্ধার করেন। এরপর থেকে কুরাইশ বংশের হাতে জমজমের পানি বিতরণের (সিকায়া) দায়িত্ব অর্পিত হয়।
৩. রাসূল (সা.)-এর যুগ ও পরবর্তী সংস্কার
রাসূলুল্লাহ (সা.) জমজমের পানিকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পানি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইসলামের প্রসারের সাথে সাথে খলিফাদের যুগেও এই কূপের প্রভূত উন্নয়ন হয়।
- আব্বাসীয় আমল: আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুর ও আল-মাহদি জমজম কূপকে ঘিরে প্রথম সুসজ্জিত ভবন ও গম্বুজ নির্মাণ করেন।
- অটোমান যুগ: উসমানীয় শাসকরাও মক্কার হাজীদের সুবিধার্থে এই কূপের চারপাশে উন্নত ড্রেনেজ সিস্টেম ও মার্বেল পাথর দিয়ে সংস্কার করেছিলেন।
৪. আধুনিক যুগে জমজম: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন
বর্তমান সৌদি সরকার আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও প্রযুক্তির মাধ্যমে জমজম কূপকে এক অভাবনীয় রূপ দান করেছে।
- ডিজিটাল তদারকি: বর্তমানে কোনো বালতি বা রশি নয়, বরং শক্তিশালী পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করা হয়। অত্যাধুনিক সেন্সর দিয়ে পানির স্তর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হয়।
- বিশুদ্ধিকরণ: অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) ব্যবহার করে রাসায়নিক মুক্ত উপায়ে পানি জীবাণুমুক্ত করা হয়, যাতে পানির আসল স্বাদ ও গুণ অক্ষুণ্ণ থাকে।
- কিংস সালমান জমজমপ্রজেক্ট: প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ লিটার পানি বোতলজাত করে সারা বিশ্বে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল ডিস্ট্রিবিউশন প্ল্যান্ট।
৫. বিজ্ঞানের চোখে জমজম: কেন এটি অনন্য?
বিজ্ঞানীরা জমজমের পানি পরীক্ষা করে কিছু বিস্ময়কর তথ্য পেয়েছেন:
- এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং এতে কোনো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নেই।
- এই পানিতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম লবণের পরিমাণ অন্য পানির চেয়ে বেশি, যা শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
- হাজার বছর ধরে লক্ষ লক্ষ মানুষ পানি পান করলেও এর উৎস কখনো শুকিয়ে যায়নি।
উপসংহার
জমজম কূপ শুধু পানির উৎস নয়; এটি বিশ্বাসীদের জন্য এক অলৌকিক নিরাময়। রাসূল (সা.) বলেছেন, “জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা সফল হয়।” হাজার বছর আগে মরুভূমিতে শুরু হওয়া সেই ছোট ঝরনাটি আজও বিশ্ববাসীকে তৃষ্ণা মিটিয়ে আল্লাহর অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে।
আত-তাবলীগ হজ্জ সার্ভিসেস
রাজকীয় সৌদী সরকারের হজ যাত্রী সেবায় পুরুস্কার প্রাপ্ত হজ এজেন্সী
বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের বৈধ হজ এজন্সেী লাইসেন্স নং -১৩৪২
বাংলাদেশ সরকারে সিভিল এভিয়েশন এর অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সী
ট্রুর অপারেটর ট্রুরিজম বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ট্রুর অপারেটর
IATA Approved Company : 42335904
We are Bangladesh Govt approved valid Haj License and ITA approved organization. Your trusted travel agent
আমাদের ইমু ও হোয়াটস এপ নং সমূহ
▶Registered Office: No. 1.No New Building (2nd Floor) Zilla Parishad Market East Aganagar,South Keraniganj, Dhaka
Subscribe to our Hajj and Umrah related Telegram channel to know more such Masla Masael regularly
Click here
Join our Hajj and Umrah WhatsApp group to get more Masala Masael regularly.
Our WhatsApp Chanel Link Here
For latest updates, you can join our ✅WhatsApp group or ☑️ Telegram channel.
গুগল ম্যাপ লোকেশন: https://share.google/E4We5ev9hVwoemWMx




