Menu
হজে হাজিদের হাঁটার প্রস্তুতি

হজের প্রস্তুতি: শারীরিক সক্ষমতা ও নিয়মিত হাঁটার গুরুত্ব

হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি যেমন আধ্যাত্মিক ইবাদত, তেমনি এটি একটি কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের কাজ। হজের প্রতিটি রুকন পালনের জন্য হাজিদের দীর্ঘ পথ হাঁটা, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা এবং প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে ধৈর্য ধারণ করতে হয়। তাই হজের আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির পাশাপাশি শারীরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা অপরিহার্য।

হজের সফরে সুস্থ থাকতে শারীরিক সক্ষমতা ও নিয়মিত হাঁটার গুরুত্ব
হজের সফরে সুস্থ থাকতে শারীরিক সক্ষমতা ও নিয়মিত হাঁটার গুরুত্ব

হজের মূল দিনগুলোতে (৮ই জিলহজ থেকে ১২ই জিলহজ) একজন হাজিকে মিনা, আরাফাহ এবং মুজদালিফার মধ্যে যাতায়াত করতে হয়। মিনার তাবু থেকে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করতে যাওয়া কিংবা কাবা শরীফে গিয়ে তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করার জন্য প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হাঁটার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া সৌদি আরবের গরম আবহাওয়ায় এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া সাধারণ শারীরিক সক্ষমতায় অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ে।

১. সহনশীলতা বা স্ট্যামিনা বৃদ্ধি: হজের সময় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এবং রোদে হাঁটার জন্য শরীরে প্রচুর শক্তির প্রয়োজন। আগে থেকে প্রস্তুতি না থাকলে খুব দ্রুত ক্লান্তি চলে আসে, যা ইবাদতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

২. পেশি ও হাড়ের নমনীয়তা: যারা সাধারণত হাঁটাচলা কম করেন, হঠাৎ হজে গিয়ে এত দীর্ঘ পথ হাঁটলে তাদের পায়ে ব্যথা, খিঁচুনি বা পা ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। নিয়মিত ব্যায়াম ও হাঁটাচলা পেশিকে এই চাপের সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।

৩. শ্বাসতন্ত্র ও হার্টের কার্যক্ষমতা: হজের ভিড়ে শ্বাসকষ্ট এড়াতে এবং হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা সচল রাখতে কার্ডিও ব্যায়াম বা দ্রুত হাঁটার কোনো বিকল্প নেই।

  • অন্তত ৩ মাস আগে থেকে প্রস্তুতি: হজে যাওয়ার অন্তত ২-৩ মাস আগে থেকে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস শুরু করুন। শুরুতে প্রতিদিন ২০ মিনিট হাঁটলেও ধীরে ধীরে তা বাড়িয়ে ১ ঘণ্টা পর্যন্ত করুন।
  • আরামদায়ক জুতো নির্বাচন: হজের সময় যে স্যান্ডেল বা জুতো ব্যবহার করবেন, তা দিয়েই হাঁটার প্র্যাকটিস করুন। নতুন জুতো পরে হজে হাঁটলে পায়ে ফোসকা পড়ার ঝুঁকি থাকে।
  • সিঁড়ি ব্যবহারের অভ্যাস: হজের সফরে অনেক সময় উঁচুতে উঠতে হয়। তাই লিফট ব্যবহার কমিয়ে সিঁড়ি ব্যবহারের অভ্যাস করুন, এটি আপনার দম বাড়াতে সাহায্য করবে।
  • পর্যাপ্ত পানি ও সুষম খাদ্য: শরীরের পানিশূন্যতা রোধে প্রচুর পানি পান করুন এবং সুষম খাবার খেয়ে নিজেকে রোগমুক্ত রাখার চেষ্টা করুন।

যাদের বয়স বেশি কিংবা যারা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যায় ভুগছেন, তারা হজে যাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আপনার বর্তমান শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী কতটুকু হাঁটা আপনার জন্য নিরাপদ, তা জেনে নিন। হজের সময় ক্লান্ত বোধ করলে বিশ্রাম নিন এবং হুইলচেয়ার বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না।

হজের সফরে সুস্থ থাকতে শারীরিক সক্ষমতা
হজের সফরে সুস্থ থাকতে শারীরিক সক্ষমতা

হজ একটি পবিত্র সফর। এই সফরে মহান আল্লাহর মেহমান হয়ে আপনি যখন যাবেন, তখন শারীরিক সুস্থতা আপনার ইবাদতকে আরও সহজ ও আনন্দময় করে তুলবে। আত তাবলীগ হজ্জ সার্ভিসেস সবসময় চায় আমাদের হাজি সাহেবরা যেন সুস্থ ও সবলভাবে তাদের হজের সকল কার্যাদি সম্পন্ন করতে পারেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমীন।

Subscribe to our Hajj and Umrah related Telegram channel to know more such Masla Masael regularly

For latest updates, you can join our ✅WhatsApp group or ☑️ Telegram channel.

গুগল ম্যাপ লোকেশন: https://share.google/E4We5ev9hVwoemWMx