Menu
ইতিহাসে গারস কূপ

মদিনার ঐতিহাসিক গারস কূপ: রাসূল ﷺ এর স্মৃতি বিজড়িত একটি স্থান


বি’রে গারস বা গারস কূপ: মদিনার সাতটি প্রসিদ্ধ নববী কূপের ইতিহাস

কেন এই কূপকে রাসূল ﷺ “আমার কূপ” বলতেন? জানুন গারস কূপের বিস্ময়কর ইতিহাস

মদিনার এক নীরব কোণে অবস্থিত হলেও ইতিহাসে গারস কূপের (বিরে গারস) অবস্থান অনেক গভীরে। এটি সাধারণ কোনো কূপ নয়, বরং ইসলামের ইতিহাসের এক অনন্য নীরব সাক্ষী।

বিরে গারস
বিরে গারস

গারস কূপের পরিচয় ও অবস্থান ‘গারস’ শব্দটি এসেছে গাছ বা খেজুর রোপণ করা থেকে। এই ঐতিহাসিক কূপটি কুবা এলাকার কাছেই, মসজিদে কুবা থেকে প্রায় ১৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত। ইতিহাস থেকে জানা যায়, কূপটি খনন করেছিলেন মালিক ইবন আন-নাহহাত। মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় পৌঁছানোর পর রাসূল ﷺ সেই ঘরেই অবস্থান করেছিলেন।

রাসূল ﷺ এর সাথে গভীর সম্পর্ক এই কূপ শুধু একটি পানির উৎস নয়, এটি রাসূল ﷺ এর সাথে সরাসরি সংযুক্ত একটি বরকতময় স্থান। বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে:

  • তিনি এই কূপের পানি পান করেছেন।
  • এই পানির জন্য বরকতের দোয়া করেছেন।
  • এই পানি দিয়ে ওযু করেছেন এবং ওযুর অবশিষ্ট পানি এতে ঢেলে দিয়েছেন।
  • একবার তাঁকে উপহার দেওয়া মধুও তিনি এতে ঢেলেছিলেন।

এমনকি কিছু বর্ণনায় এটিকে জান্নাতের কূপগুলোর একটি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিরে গারস কূপ
বিরে গারস কূপ

শেষ মুহূর্তের নির্দেশ সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, রাসূল ﷺ তাঁর ইন্তিকালের সময় আলী (রাঃ) কে নির্দেশ দিয়েছিলেন এই কূপের পানি দিয়ে তাঁকে গোসল (শেষ গোসল) করাতে। তিনি অত্যন্ত ভালোবেসে এটিকে “আমার কূপ” বলে ডাকতেন।

গারস কূপ হলো মদিনার সাতটি প্রসিদ্ধ নববী কূপের একটি। অন্যগুলো হলো আরিস, রুমাহ, বিরে হা, বুদাআহ, বাস্সা এবং আহন।

বিরে গারস কূপ Photo
বিরে গারস কূপ Photo

অতীতের সৌন্দর্য ও বর্তমান অবস্থা ইতিহাসে এই কূপের চমৎকার বর্ণনা পাওয়া যায়। এর চারপাশে ছিল মনোরম গাছপালা। পানি কিছুটা সবুজাভ হলেও স্বাদে ছিল অত্যন্ত মিষ্টি ও প্রশান্তিদায়ক। এর সুগন্ধ ছিল অনেকটা আম্বরের মতো। সময়ের প্রবাহে কূপটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরে তা পুনর্নির্মাণ করা হয়। এর চারপাশে বাগান, দেয়াল ও একটি মসজিদও নির্মাণ করা হয়েছিল। আজও এটি বিদ্যমান এবং সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত রয়েছে, যাতে হাজিরা এই ইতিহাস সরাসরি জানতে ও দেখতে পারেন।

আমাদের করণীয় ও বিশ্বাস ইতিহাস জানা এবং সম্মান করার পাশাপাশি একটি বিষয় আমাদের মনে রাখা জরুরি। এই কূপের পানিকে জমজমের পানির সাথে তুলনা করা বা এতে কোনো বিশেষ মুজিযা আছে বলে বিশ্বাস করা সঠিক নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে ইসলামের ইতিহাস জানা, কিন্তু সব ধরনের ভুল বিশ্বাস বা কুসংস্কার থেকে নিজেকে রক্ষা করা।