ইসলামের ইতিহাসে যে সকল মহীয়সী নারী নিজেদের ত্যাগ ও ঈমানি দৃঢ়তার মাধ্যমে অমর হয়ে আছেন, উম্মুল মুমিনিন হযরত মায়মুনা বিনতে আল-হারিস (রা.) তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ছিলেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শেষ স্ত্রী। আজ আমরা জানবো তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন এবং মক্কার অদূরে অবস্থিত তাঁর পবিত্র সমাধি বা মাজার শরিফ সম্পর্কে।

মায়মুনা বিনতে আল-হারিস (রা.)-এর পবিত্র মাজার (Grave)
হযরত মায়মুনা (রা.)-এর সমাধি মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তরে ‘সারিফ’ (Sarif) নামক একটি ছোট শহরে অবস্থিত। এটি মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার প্রধান সড়ক ‘তারিক আল-হিজরা‘-এর পাশেই অবস্থিত। আশ্চর্য ও ঐতিহাসিক সত্য হলো, যে গাছের নিচে রাসূল (সা.)-এর সাথে তাঁর বিয়ে হয়েছিল, ঠিক সেই স্থানটিতেই তাঁকে দাফন করা হয়েছিল।
বংশ পরিচয় ও পরিবার
মায়মুনা (রা.) এমন এক পরিবারের সদস্য ছিলেন, যাদের নবীজি (সা.) “বিশ্বাসী বোন” (The Believing Sisters) হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। তাঁর অন্য তিন বোন হলেন লুবাবাহ আল-কুবরা, আসমা এবং ইজ্জাহ।
- পিতা: আল-হারিস ইবনে হাজন।
- মাতা: হিন্দ বিনতে আওফ ইবনে জুবায়ের। হিন্দ (রা.)-কে সে সময়ের ‘সবচেয়ে অভিজাত বৃদ্ধা’ মনে করা হতো, কারণ তাঁর সন্তানদের বিয়ে হয়েছিল রাসূল (সা.), আবু বকর (রা.), এবং আলীর (রা.) মতো মহান ব্যক্তিদের সাথে।
- বোন: তাঁর বড় বোন লুবাবাহ (উম্মুল ফজল) ছিলেন খাদিজা (রা.)-এর পর ইসলাম গ্রহণকারী দ্বিতীয় নারী এবং বিখ্যাত সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের জননী।
নবীজি (সা.)-এর সাথে বিবাহ
মায়মুনা (রা.)-এর পূর্ব নাম ছিল ‘বাররাহ’। তিনি রাসূল (সা.)-এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন। ৭ হিজরিতে যখন মুসলিমরা হুদায়বিয়ার সন্ধি অনুযায়ী ‘ওমরাতুল কাজা’ পালন করতে মক্কায় যান, তখন রাসূল (সা.) তাঁর চাচা আব্বাসের মাধ্যমে মায়মুনা (রা.)-কে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান।
রাসূল (সা.)-এর সম্মতি পাওয়ার খবরে তিনি এতটাই আনন্দিত হয়েছিলেন যে, তৎক্ষণাৎ নিজের উটটি রাসূল (সা.)-এর নামে উৎসর্গ করে দেন। এই বিশেষ প্রেক্ষাপটে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আহজাবের ৫০ নম্বর আয়াত নাজিল করেন।
নাম পরিবর্তন: বিবাহের পর নবীজি (সা.) তাঁর নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘মায়মুনা’, যার অর্থ ‘বরকতময়’। কারণ, দীর্ঘ সাত বছর পর নবীজি (সা.) এবং তাঁর সাহাবীদের জন্য মক্কায় শান্তিপূর্ণ প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছিল এই বিয়ের সময়কালেই।

জ্ঞান ও ইবাদতগুজার জীবন
মায়মুনা (রা.) মদিনায় নবীজি (সা.)-এর সাথে তিন বছর সংসার করেছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরহেজগার, দানশীল এবং জ্ঞানী। উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা (রা.) তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন:
“আল্লাহর শপথ, মায়মুনা চলে গেলেন। তিনি আমাদের মধ্যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করতেন এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতেন।”
মৃত্যু ও দাফন
ইমাম আয-যাহাবীর মতে, হযরত মায়মুনা (রা.) ৫১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। অসুস্থ অবস্থায় তিনি মক্কার বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, কারণ নবীজি (সা.) তাঁকে জানিয়েছিলেন যে তাঁর মৃত্যু মক্কায় হবে না। পরিশেষে সারিফ নামক স্থানে তাঁর মৃত্যু হয়—ঠিক যেখানে তাঁর বিয়ের বাসর রাত অতিবাহিত হয়েছিল।

কিভাবে মাজার জিয়ারত করবেন? (Visit Guide)
আপনি যদি হযরত মায়মুনা (রা.)-এর মাজার জিয়ারত করতে চান, তবে মক্কার মসজিদে হারাম বা মসজিদে আয়েশা (তানঈম) থেকে ট্যাক্সি নিতে পারেন।
- দূরত্ব: মসজিদে আয়েশা থেকে এটি মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে।
- সময়: ট্যাক্সিতে যেতে প্রায় ১৫-২০ মিনিট সময় লাগে।
- অবস্থান: মদিনা হাইওয়ের একদম পাশেই এটি অবস্থিত। অধিকাংশ ট্যাক্সি চালকই এই স্থানটি চিনেন।
উপসংহার: হযরত মায়মুনা (রা.)-এর জীবন থেকে আমাদের জন্য অনেক শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। তাঁর পবিত্র সমাধি জিয়ারত করা মুমিনদের জন্য এক অনন্য আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা।
আপনার যদি মক্কা বা মদিনার ঐতিহাসিক স্থান সম্পর্কে আরও জানার থাকে, তবে আমাদের ব্লগের অন্যান্য পোস্টগুলো পড়তে পারেন।
আত-তাবলীগ হজ্জ সার্ভিসেস
রাজকীয় সৌদী সরকারের হজ যাত্রী সেবায় পুরুস্কার প্রাপ্ত হজ এজেন্সী
বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের বৈধ হজ এজন্সেী লাইসেন্স নং -১৩৪২
বাংলাদেশ সরকারে সিভিল এভিয়েশন এর অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সী
ট্রুর অপারেটর ট্রুরিজম বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ট্রুর অপারেটর
IATA Approved Company : 42335904
We are Bangladesh Govt approved valid Haj License and ITA approved organization. Your trusted travel agent
আমাদের ইমু ও হোয়াটস এপ নং সমূহ




